নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় বিএনপি, ডিজিটাল প্রচারণা ও জনমুখী সমাবেশে জোর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছে বিএনপি। প্রতিটি আসনে দল মনোনীত প্রার্থীরা মাঠ চষে ঘুরছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাবেশ ও জনসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। দলের নির্বাচনী স্লোগান “সবার আগে বাংলাদেশ” জনসমর্থন আদায়ের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিএনপি এবার সামাজিক মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়েছে। দলের প্রথম নির্বাচনী ভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে ‘থিম সং’। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়নি, তবে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষি কার্ড এবং কৃষকদের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আসনভিত্তিক প্রচার কার্যক্রমে। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের টিম তৈরি করে প্রার্থীদের পাশে রাখা হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনও ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে।
প্রথম নির্বাচনী দিনে তারেক রহমান সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করেছেন। প্রতিটি সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তিনি দলের ৩১ দফা পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের ৮টি মূল উদ্যোগ তুলে ধরেছেন।
ডিজিটাল প্রচারণায়ও বিএনপি এগিয়ে আছে। ঢাকা-৪ এবং ঢাকা-১৬ আসনে প্রার্থীরা ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। ভোটাররা তাদের মতামত ও অভিযোগ জানাতে পারছেন, যা প্রার্থীরা গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান করছেন।
তবে দলের অভ্যন্তরে কিছু অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্ধশতাধিক আসনে মনোনীত, বিদ্রোহী ও বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে কোন্দল দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের অনেক নেতা মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ইতিমধ্যে ৭১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে। যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আরও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। অনেকে ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


