ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি: ইসরায়েলি সেনাদের ভয়াবহ স্বীকারোক্তি প্রকাশ্যে
গাজায় খাবারের আশায় শূন্য পাত্র হাতে তাকিয়ে ফিলিস্তিনি শিশুরা। ছবি: আনাদুলু
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ত্রাণ সংগ্রহে আসা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ‘উপরের নির্দেশে’ গুলি চালিয়েছে—এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলেরই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্য স্বীকার করেছেন, কোনো ধরনের সরাসরি হুমকি না থাকা সত্ত্বেও বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালাতে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক সেনাসদস্য হারেৎজ-কে বলেন, “আমি যে এলাকায় দায়িত্বে ছিলাম, সেখানে প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন ছিল না যে গুলি চালানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানোর আদেশ ছিল—যেটা পরিষ্কারভাবে একটি হত্যাকাণ্ড।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে চার হাজারের বেশি। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সহায়তার জন্য জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষ।
এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পরই ইসরায়েলি সেনাদের ভেতর থেকে অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এক রিজার্ভ সেনা বলেন, “গাজায় এখন যুদ্ধ নয়, বরং একতরফা নিধনযজ্ঞ চলছে। মানবজীবনের কোনো মূল্য নেই এখানে।”
হারেৎজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ও জাতিসংঘের খাদ্য ট্রাকের আশপাশে গুলি চালানোর অভিযানগুলোকে দেওয়া হয়েছে একটি অপারেশনাল নাম—‘অপারেশন সল্টেড ফিশ’। সেনাদের দাবি, এই নামটি একটি শিশুদের খেলাধুলার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ‘ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ’।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এসব হামলায় মর্টার শেল, ট্যাংক এবং মেশিনগান পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে—যা মানবিক আইন ও যুদ্ধনীতি লঙ্ঘনের শামিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং অ্যাসেসমেন্ট মেকানিজম’ এই অভিযোগগুলোর কয়েকটি তদন্তের আওতায় আনলেও বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রক্রিয়া মূলত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
হারেৎজ জানায়, ডিভিশন ২৫২-এর নেতৃত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইহুদা ভাখ নিজেই জাতিসংঘের ত্রাণ ট্রাকের আশপাশে জড়ো হওয়া নিরস্ত্র বেসামরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এক আইনি বিশ্লেষক বলেন, “প্রতিদিন ডজন ডজন মানুষ হতাহত হচ্ছে, কিন্তু কোনো প্রকৃত তদন্ত বা জবাবদিহিতার চিহ্ন নেই। এটা একটা নীতিগত সংকট।”
গাজার ভেতরে সেনা অভিযানে ঠিকাদারদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এক সেনাসদস্য জানিয়েছেন, “প্রতিটি ভবন ধ্বংসের জন্য ঠিকাদাররা পাচ্ছে গড়ে ৫ হাজার শেকেল। এটা হয়ে উঠেছে এক প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্য।”


