ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজনীতি
ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতারণা, জালিয়াতি ও প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরোয়ানা জারি হওয়া অপর চার আসামি হলেন ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক। তাবারেজ খান ভারতীয় নাগরিক।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আদালত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন।

বাদীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির পর তিনি দেশীয় ও আমদানীকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন। প্রথম দিকে নিয়মিতভাবে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলায় বলা হয়, এক লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংকে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো অর্থ জমা দেওয়া হতো। পাশাপাশি ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রেখে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফুডপান্ডার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাগুলো মূলত একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বিরোধের জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিহাব মাহমুদ বশির নিজের দায় এড়ানো, প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলকভাবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তাদের আরও দাবি, চারটি মামলারই তদন্ত একই থানার পুলিশ করেছে। এর মধ্যে পরবর্তী দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী পক্ষের কাছেই ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

একটি আইন মেনে চলা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশে প্রচলিত আইন, বিচারব্যবস্থা ও সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল বলেও জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করেছে, চলমান বিরোধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।