জাতীয় স্বার্থে ভারতের প্রভুত্ব প্রতিহত করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) বলেছেন, ভারতীয় প্রভুত্ব থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করতে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন নদী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান ও টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সফলতার ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজের নির্মাণকাজ শুরু হবে। উজান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়, তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে সেই পানি সংরক্ষণ করে খরা মৌসুমে দেশের কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, সুরমা নদীতেও ব্যারেজ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হবে। এসব প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কাজের মাধ্যমেই ভারতীয় দাসত্ব ও প্রভুত্ব থেকে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নেই। গণতন্ত্রে প্রত্যেকের নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে যারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-যুব-জনতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ, তাদের কোনো ধরনের প্রচারণা বরদাশত করা হবে না এবং তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
দেশের নিরাপত্তা ও সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে কোনো পরাশক্তি আগ্রাসনের চেষ্টা করলে তা দেশের মাটিতে বরদাশত করা হবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষই সবচেয়ে বড় সম্পদ ও শক্তি।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে এবং চিকিৎসকরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। দেশের এই অর্জন ও স্বাধীনতা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নষ্ট করা যাবে না।
অন্য দেশের সুবিধা নেওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে অন্য কারও কাছে দাসত্ব করার জন্য নয়। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশের যানবাহন বিনা খাজনায় চলবে, অথচ তারা বাংলাদেশকে কর দেবে না কিংবা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গাড়ি পরীক্ষা করতে পারবে না—এ ধরনের পরাধীনতার দিন শেষ হয়েছে।
দেশকে সব ধরনের পরাধীনতা থেকে মুক্ত রাখাই সরকারের মূল অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


