খতিবের বক্তব্য থেকে বিক্ষোভ, বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা

রাজনীতি
খতিবের বক্তব্য থেকে বিক্ষোভ, বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা

জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। খতিবকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেন একদল মুসল্লি। এ সময় জামায়াত ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদূদীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। তবে খতিবের অপসারণের বিষয়ে জামায়াতের ভূমিকা থাকার অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, জাতীয় মসজিদের খতিব মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি বায়তুল মোকাররমে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং নামাজে ইমামতি করবেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; ইসলাম আল্লাহর, তৌহিদীদের এবং মুসলমানদের।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।

খতিবের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপত্তি জানানোর সময় তাঁকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।

খতিবের এসব মন্তব্যের পর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগানের ঘটনা ঘটে। তবে খতিবকে অপসারণের উদ্যোগে জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।