চাঁদাবাজি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঘাস খাওয়াতেও টাকা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি
চাঁদাবাজি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঘাস খাওয়াতেও টাকা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা
১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নিজের এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না জানিয়ে এমন ঘটনা ঘটলে সরাসরি রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের চাঁদাবাজির পরিস্থিতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা না দিলে খামারের মাছেও বিষ মেশানোর মতো ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নিজ এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি নিজেই রাজপথে নামবেন। বালু চুরি ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশে নিয়ে রাজনীতি করতে চান না বলেও জানান তিনি।

রাজনীতিতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সার ডিলারশিপ বা সড়কের কাজের ঠিকাদারি দেওয়ার মতো কোনো আত্মীয় তাঁর নেই। কাউকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

দলীয় নেতা-কর্মীদের আচরণ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো কর্মী ভোটারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে বা অনিয়মে জড়ালে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে তাঁকে জানানো যাবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের সরকার গঠিত হওয়ায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তবে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজির নিচে সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকায় একটি ডিমের দামও ১৫ টাকায় পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।