মদের ব্যাপারে কুরআনের বিধান কি স্ববিরোধী?

ধর্ম
মদের ব্যাপারে কুরআনের বিধান কি স্ববিরোধী?
১৫ জুলাই ২০২৬

কিছু সমালোচক দাবি করেন, কুরআনে মদ সম্পর্কে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। কোথাও মদের কিছু উপকারিতার কথা বলা হয়েছে, কোথাও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, আবার শেষ পর্যন্ত মদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ এটিকে ‘স্ববিরোধিতা’ বলে আখ্যা দেন।

তবে ইসলামি গবেষক ও তাফসিরবিদদের মতে, এটি কোনো স্ববিরোধিতা নয়; বরং শরিয়তের বিধান ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি সুপরিকল্পিত পদ্ধতি।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম মানুষের সামর্থ্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে অনেক বিধান পর্যায়ক্রমে কার্যকর করেছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।” (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে মদ্যপান ছিল ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তাই একদিনে তা নিষিদ্ধ না করে ধাপে ধাপে মানুষের মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করা হয়।

প্রথম ধাপে, সূরা আল-বাকারার ২১৯ নম্বর আয়াতে জানানো হয়, মদ ও জুয়ার কিছু উপকারিতা থাকলেও এর পাপ ও ক্ষতি উপকারের চেয়ে অনেক বেশি। এর মাধ্যমে মদের নেতিবাচক দিক মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়।

পরবর্তীতে সূরা আন-নিসার ৪৩ নম্বর আয়াতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেতে নিষেধ করা হয়। এতে মদ্যপানের সময় ও পরিসর আরও সীমিত হয়ে আসে।

সবশেষে সূরা আল-মায়িদার ৯০-৯১ নম্বর আয়াতে মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা ও ভাগ্য নির্ধারণের তীরকে শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে উল্লেখ করে এসব থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসলামি আইন অনুযায়ী, এটিই মদ হারামের চূড়ান্ত বিধান।

হাদিসেও রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যা নেশা সৃষ্টি করে, তার সবই হারাম।” (সহিহ মুসলিম)

ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, কুরআনের এসব আয়াত পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একটি ধারাবাহিক আইন প্রণয়নের অংশ। প্রথমে সচেতনতা সৃষ্টি, পরে আংশিক নিষেধাজ্ঞা এবং শেষ পর্যন্ত পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা—এই ধাপগুলোই ইসলামে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে।