স্বামীর পকেট থেকে না বলে টাকা নেওয়া কি জায়েজ?
ইসলামী শরিয়তে স্বামীর ওপর স্ত্রীর ন্যায্য ভরণ-পোষণের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর ওয়াজিব দায়িত্ব। তবে স্বামী যদি এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বা প্রয়োজনীয় খরচ না দেন, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে স্ত্রী স্বামীর অজান্তে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে সহিহ হাদিসে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী আবু সুফিয়ান (রা.) প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণ দেন না। ফলে তিনি স্বামীর অজান্তে কিছু অর্থ নিয়ে থাকেন। জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত রীতি অনুসারে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু নিতে পারো। (সহিহ বুখারি: ৫৩৬৪; সহিহ মুসলিম: ১৭১৪)
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই অনুমতি কেবল ন্যায্য ভরণ-পোষণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ, বিলাসিতা, অলংকার বা ব্যক্তিগত শখ পূরণের জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া টাকা নেওয়া বৈধ নয়। এমন কাজ আমানতের খেয়ানতের শামিল এবং শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।
ইসলামী শিক্ষায় দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বিশ্বাস, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই শুধু ওয়াজিব খরচ বহন করাই নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে ব্যক্তিগত খরচের জন্য কিছু অর্থ দেওয়া স্বামীর উত্তম নৈতিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছেন অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ।
হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) তার রচনায় উল্লেখ করেছেন, স্ত্রীর এমন কিছু ব্যক্তিগত প্রয়োজন থাকতে পারে, যার জন্য স্বামীর উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী আলাদা অর্থ দেওয়া, যাতে তিনি নিজের ইচ্ছামতো তা ব্যয় করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মোহরানা ও নিয়মিত ভরণ-পোষণের বাইরে মাসিক কিছু হাতখরচ দেওয়া দাম্পত্য জীবনে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। (মুনতাখাব আনমোল মোতি; তোহফায়ে যাওজাইন)
অতএব, ইসলামী শরিয়তের আলোকে স্বামী যদি ন্যায্য ভরণ-পোষণ না দেন, তাহলে স্ত্রী নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে সীমিত পরিমাণ অর্থ স্বামীর অজান্তে নিতে পারবেন। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বা ব্যক্তিগত বিলাসিতার জন্য তা ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত নয়।


