মৃত মা-বাবার জন্য যে দুই আমল সবচেয়ে উপকারী
মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে দুনিয়ার জীবনের সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু আমলের উপকার মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। বিশেষ করে সন্তানের কিছু নেক আমলের প্রভাব মৃত মা-বাবার ওপরও পড়তে পারে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, মৃত মা-বাবার জন্য সন্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে দোয়া ও সদকা। সন্তান নিজে নেক জীবনযাপন করে মা-বাবার জন্য নিয়মিত দোয়া করলে তা তাঁদের জন্য উপকারের কারণ হতে পারে।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি বিষয় এর ব্যতিক্রম—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম)
এ কারণে মা-বাবার মৃত্যুর পর সন্তানের উচিত তাঁদের জন্য নিয়মিত মাগফিরাতের দোয়া করা। পাশাপাশি নিজের আমল-আখলাক সুন্দর করা এবং হালাল-হারাম মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মা-বাবার পক্ষ থেকে সদকা করা। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে দান করে আল্লাহর কাছে মৃত মা-বাবার জন্য সওয়াব পৌঁছানোর দোয়া করা যায়। বিশেষ করে স্থায়ী কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করলে তা সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
মা-বাবার জন্য কোরআনে শেখানো একটি দোয়া হলো—
‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সাগীরা’—অর্থাৎ, ‘হে আমার রব, তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা আল-ইসরা: ২৪)
তাই মা-বাবা ইন্তেকাল করার পর তাঁদের জন্য দোয়া করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করা সন্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। পাশাপাশি নিজের জীবনকে নেক আমলে সাজানোও মৃত মা-বাবার জন্য কল্যাণের মাধ্যম হতে পারে।


