সুরা আদিয়াতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

ধর্ম
সুরা আদিয়াতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে
৪ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের জীবনে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব যেন কখনো শেষ হয় না। যা আছে, তার চেয়ে যা নেই—অনেক সময় সেটিই মানুষকে বেশি ভাবায়। জীবিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যও অনেকের অগোচরে থেকে যায়। সম্পদ, সাফল্য ও ভোগের আকাঙ্ক্ষা কখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মহান আল্লাহর অগণিত নেয়ামতের কথাই মানুষ ভুলে যায়।

মাত্র ১১ আয়াতের সুরা আদিয়াত মানুষের এই দুর্বলতার দিকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরেছে। সুরাটির শুরুতে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ঘোড়ার দৃশ্যের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। এরপর মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বভাবের কথা বলা হয়েছে—‘নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা আদিয়াত, আয়াত ৬)

তাফসিরকারদের ব্যাখ্যায় ‘কানুদ’ বলতে এমন মানুষকে বোঝানো হয়েছে, যে বিপদ-আপদ ও অভাবের কথা মনে রাখে, কিন্তু আল্লাহর দেওয়া অসংখ্য নেয়ামত সহজেই ভুলে যায়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে হবে

সুস্থতা, পরিবার, নিরাপদ জীবন, রিজিক, জ্ঞান ও সময়—সবই আল্লাহর বড় নেয়ামত। অথচ একটি অপূর্ণতা বা না-পাওয়ার কারণে মানুষ অনেক সময় অসংখ্য প্রাপ্তিকে উপেক্ষা করে।

সুরা আদিয়াতের শিক্ষা হলো, শুধু মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলাই কৃতজ্ঞতার পূর্ণ প্রকাশ নয়। বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত সঠিকভাবে ব্যবহার করাও কৃতজ্ঞতার অংশ।

অর্থ পেয়েছি—তাই তা অন্যায় কাজে ব্যয় করা যাবে না। জ্ঞান পেয়েছি—তাই মানুষের উপকারে তা কাজে লাগাতে হবে। ক্ষমতা পেয়েছি—তাই দুর্বল মানুষের ওপর জুলুম করা যাবে না। অর্থাৎ প্রতিটি নেয়ামতের যথাযথ ব্যবহারই কৃতজ্ঞতার বাস্তব প্রকাশ।

সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি বিপজ্জনক

সুরাটির অষ্টম আয়াতে মানুষের সম্পদের প্রতি প্রবল ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ইসলাম হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জনকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং বৈধভাবে উপার্জন ও প্রয়োজনীয় সম্পদ সঞ্চয় করা অনুমোদিত।

তবে সম্পদের প্রতি এমন আসক্তি, যা মানুষকে আল্লাহর বিধান, নৈতিক দায়িত্ব ও পরকালের কথা ভুলিয়ে দেয়, সেটিই বিপজ্জনক।

বর্তমান জীবনেও এই শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বেশি আয়, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের প্রতিযোগিতা যেন মানুষের বিবেক ও নৈতিকতাকে আচ্ছন্ন না করে। সম্পদ মানুষের হাতে থাকবে, কিন্তু মানুষের হৃদয় ও মূল্যবোধের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে না।

গোপন কাজও একদিন প্রকাশ পাবে

সুরার শেষ আয়াতগুলো মানুষকে আখিরাতের বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কবর থেকে মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং মানুষের অন্তরের গোপন বিষয়গুলোও প্রকাশ করা হবে। সেদিন মানুষের কোনো কাজই আল্লাহর অজানা থাকবে না।

এই বিশ্বাস মানুষকে আত্মসংযমী হতে শেখায়। মানুষের চোখ এড়িয়ে কোনো কাজ করা সম্ভব হলেও মহান আল্লাহর কাছ থেকে তা গোপন করা সম্ভব নয়। তাই শুধু বাহ্যিক আচরণ নয়, অন্তরকেও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে।

সুরা আদিয়াতের সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বার্তা হলো—অপ্রাপ্তির হিসাবের চেয়ে প্রাপ্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করা, সম্পদের প্রতি আসক্তির বদলে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রতিটি কাজের জন্য আখিরাতে জবাবদিহির প্রস্তুতি নেওয়া। মানুষের জীবনযাত্রায় এই তিনটি বিষয় সচেতনভাবে ধারণ করতে পারলে কৃতজ্ঞতা, আত্মসংযম ও নৈতিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী হতে পারে।