কবর দেওয়ার কত দিন পর একই কবরে দাফন করা যাবে?
একজন মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর একই কবরে অন্য কাউকে দাফন করা যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী শরিয়তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিন বা বছর বেঁধে দেওয়া হয়নি। বরং প্রথম মৃত ব্যক্তির দেহ ও হাড়গোড়ের অবস্থা এবং ওই এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
ঢাকা বিমানবন্দরের জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো—একটি কবর একজন মৃত ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত। প্রথম মৃত ব্যক্তির হাড়গোড় পচে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার আগে ওই কবর খুঁড়ে সেখানে অন্য কাউকে দাফন করা জায়েজ নয়।
তিনি বলেন, কত দিনে একটি মরদেহ সম্পূর্ণভাবে মাটিতে মিশে যাবে, তার নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। কারণ মাটির ধরন, আবহাওয়া ও পরিবেশভেদে মরদেহের পচনপ্রক্রিয়ার সময় ভিন্ন হতে পারে।
প্রথম মৃত ব্যক্তির দেহ সম্পূর্ণ পচে গিয়ে হাড়গোড়ও মাটির সঙ্গে মিশে গেলে ওই স্থান পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। তখন সেখানে অন্য মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা শরিয়তসম্মত হতে পারে। তবে কবর খননের সময় যদি আগের মৃত ব্যক্তির কোনো হাড় পাওয়া যায়, তাহলে তা সম্মানের সঙ্গে এক পাশে রেখে মাটির আড়াল তৈরি করে নতুন মৃত ব্যক্তিকে দাফনের কথা ফিকহের গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ফাতাওয়ায়ে শামি’তে বলা হয়েছে, প্রথম মৃত ব্যক্তির দেহাবশেষ সম্পূর্ণ বিলীন না হওয়া পর্যন্ত অন্য কাউকে দাফনের জন্য কবর খনন করা যাবে না। তবে কোনো এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যে নতুন দাফনের জন্য জায়গার সংকট রয়েছে, সেক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা ও শরিয়তের বিধান বিবেচনা করতে হবে।
ফিকহের আলোচনায় মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও কবরের সম্মান রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম মৃত ব্যক্তির দেহাবশেষ অক্ষত থাকা অবস্থায় কবর খুঁড়ে সেখানে অন্য ব্যক্তিকে দাফন করলে আগের মৃতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এমন কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
‘ফাতাওয়ায়ে শামি’তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি মাটিতে পরিণত হয়ে গেলে তার কবরের স্থানে অন্যকে দাফন করা, সেখানে চাষাবাদ করা বা স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো ফিকহবিদ মৃতের সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অতিরিক্ত সতর্কতার কথা বলেছেন।
তাই একটি কবরে কত দিন পর অন্য কাউকে দাফন করা যাবে—এর উত্তর নির্দিষ্ট ‘৪০ দিন’, ‘এক বছর’ বা অন্য কোনো সময়সীমায় সীমাবদ্ধ নয়। মূল বিবেচ্য হলো, আগের মৃত ব্যক্তির দেহ ও হাড়গোড় মাটির সঙ্গে বিলীন হয়েছে কি না। বিষয়টি নিশ্চিত না হলে স্থানীয় আলেম বা দায়িত্বশীল মুফতির পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।


