মানুষের জীবন রক্ষায় ইসলামের শিক্ষা

ধর্ম
মানুষের জীবন রক্ষায় ইসলামের শিক্ষা
২৪ অক্টোবর ২০২৬

পৃথিবীতে মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো বেঁচে থাকার অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সংঘাত-সহিংসতা, অন্যায় হত্যাকাণ্ড, রক্তপাত ও অরাজকতাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে সৎকাজে সহযোগিতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলুম-নির্যাতন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম।

তবে শান্তিপূর্ণ সমাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ড। সুযোগ পেলেই তারা নিরীহ মানুষের ওপর অন্যায় আক্রমণ চালায় এবং জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টি করে। ইসলাম এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, আল্লাহ ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা মায়েদা: ৬৪)।

ইসলাম বিশ্বজনীন শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এর অন্যতম লক্ষ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৮৪; সহিহ মুসলিম: ৪০)।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ শিক্ষা অনুযায়ী, সমাজে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নাশকতা, নৈরাজ্য, উগ্রতা, প্রতিহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর এতে বিপর্যয় ঘটাবে না।’ (সুরা আরাফ: ৫৬)।

অন্যায় হত্যাকাণ্ডের কঠোর পরিণতি

সমাজে নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত প্রতিরোধে ইসলাম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অপরাধের বিচার হতে হবে ন্যায়সংগতভাবে এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী। অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, তাদের সম্পদের ক্ষতিসাধন কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোনো মুমিনকে হত্যা করা কোনো মুমিনের কাজ নয়, তবে ভুলবশত করলে তা স্বতন্ত্র। …কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হবেন, তাকে অভিশম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।’ (সুরা নিসা: ৯২-৯৩)।

নিরপরাধ মানুষকে গুলি করে, বোমা মেরে কিংবা যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে হত্যা করা বা প্রাণহানি ঘটানো ইসলামের মানবিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিনষ্ট করার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘কারণ ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সুরা মায়েদা: ৩২)।

মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তোমরা তাকে হত্যা করো না।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৩)।

মানবজীবনের মর্যাদা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে হাদিসেও কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’

ইসলামের এসব নির্দেশনা মানুষের জীবন রক্ষা, অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধ এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাই ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা অন্য কোনো অজুহাতে নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা, রক্তপাত ও সম্পদ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার অংশ।