ফুটবলে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ দেশ: সান ম্যারিনো সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য

খেলাধুলা
ফুটবলে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ দেশ: সান ম্যারিনো সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য
নিউজ ডেস্ক
৬ জুন ২০২৬

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম জয়—বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে ৫ জুনের দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সান ম্যারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ফল নয়, বরং নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় এক যাত্রার সূচনা।

তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে স্বাগতিক সান ম্যারিনোও। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ফুটবলযাত্রা বেশ ব্যতিক্রমী।

দক্ষিণ ইউরোপের ছোট্ট রাষ্ট্র সান ম্যারিনো সম্পূর্ণভাবে ইতালির ভূখণ্ড দ্বারা বেষ্টিত। মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি এপেনাইন পর্বতমালার তিতানো পর্বতের ওপর গড়ে উঠেছে। আয়তনে ছোট হলেও এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইতিহাসবিদদের মতে, ৩০১ খ্রিষ্টাব্দে মারিনুস নামে এক খ্রিষ্টান পাথরশিল্পী এখানে বসতি স্থাপন করেন। তার নাম থেকেই দেশটির নামকরণ। এরপর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বাধীনতা ধরে রেখেছে সান ম্যারিনো। ইউরোপের নানা রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও দেশটি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

প্রায় ৩৩ হাজার মানুষের বাস সান ম্যারিনোতে। ছোট জনসংখ্যার কারণে দেশটিতে সামাজিক বন্ধন বেশ দৃঢ়। জীবনমান, স্বাস্থ্যসেবা এবং গড় আয়ুর দিক থেকেও ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর কাতারে রয়েছে এই রাষ্ট্র।

অর্থনীতির বড় অংশ আসে পর্যটন, ব্যাংকিং খাত এবং ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা বিক্রি থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও দেশটি ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সান ম্যারিনোর অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ফুটবল শক্তিগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত দেশটি প্রায়ই শক্তিশালী ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারে।

১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে শতাধিক ম্যাচে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের। তবে সীমিত জনসংখ্যা ও অবকাঠামো সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে যাওয়াই দেশটির বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

সান ম্যারিনোর জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই পূর্ণকালীন পেশাদার ফুটবলার নন। কেউ শিক্ষক, কেউ অফিসকর্মী, কেউ শিক্ষার্থী বা ছোট ব্যবসায়ী। দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি তারা জাতীয় দলের হয়ে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলেন।

তাই ইউরোপের বড় বড় তারকাদের বিপক্ষে মাঠে নামাটাই তাদের কাছে এক ধরনের গর্বের বিষয়। ফলাফল যাই হোক, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে তারা বিশেষ সম্মান হিসেবে দেখেন।

সান ম্যারিনো সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য
  • দেশটিতে একসঙ্গে দুজন রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব পালন করেন, যাদের বলা হয় “ক্যাপ্টেনস রিজেন্ট”।
  • প্রতি ছয় মাস অন্তর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়।
  • দেশের নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা জনসংখ্যার তুলনায় বেশি।
  • যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দেশটির সম্মানসূচক নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।
  • ইতালি থেকে সান ম্যারিনোতে প্রবেশের সময় সাধারণত আলাদা সীমান্ত চৌকি চোখে পড়ে না।

বাংলাদেশের কাছে পরাজিত হলেও সান ম্যারিনো আবারও দেখিয়েছে যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে লড়াইয়ের মানসিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্ষুদ্র জনসংখ্যা ও সীমিত সম্পদ নিয়েও তারা নিয়মিতভাবে বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

আর বাংলাদেশের জন্য এই জয় ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকলেও, সান ম্যারিনোর গল্প মনে করিয়ে দেয়—ফুটবলে সবসময় ফলাফলই শেষ কথা নয়; সংগ্রাম, পরিচয় ও আবেগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।