বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনা নিয়ে যে বার্তা দিয়ে গেলেন মেসি

খেলাধুলা
বিদায়বেলায় আর্জেন্টিনা নিয়ে যে বার্তা দিয়ে গেলেন মেসি
৭ অক্টোবর ২০২৬

শেষ হলো লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়। সমর্থক ও সতীর্থদের আবেগে ভাসিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিদায়ী ম্যাচেও দেখিয়েছেন সেই অদম্য লড়াকু মানসিকতা। বেনিনের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি করেছেন দুটি অ্যাসিস্ট।

বুয়েনস আয়ার্সের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম এদিন পরিণত হয়েছিল মেসির বিদায় মঞ্চে। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকে পূর্ণ গ্যালারিতে ম্যাচজুড়েই ছিল আবেগের ঢেউ। ম্যাচের ১০ মিনিটে বিশেষভাবে খেলা থামিয়ে মেসিকে সম্মান জানানো হয়। পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালিতে বিদায়ী অধিনায়ককে অভিবাদন জানায়। এ সময় আতশবাজির আলোয় আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে স্টেডিয়ামের পরিবেশ।

ম্যাচ শেষে মেসি নিজের অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এখন তার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়কে তিনি জীবনের অন্যতম তীব্র অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই যাত্রায় সতীর্থদের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মেসি বলেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শৈশবের স্বপ্ন পূরণে সতীর্থরা তাকে সহায়তা করেছেন। মাঠের ভেতরে ও বাইরে তাদের সঙ্গে সময় কাটানোকে তিনি নিজের জন্য বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

আর্জেন্টিনা যখনই মাঠে নামত, তখন যেকোনো দলের বিপক্ষেই লড়াই করার সামর্থ্য নিজেদের ছিল বলে মনে করতেন মেসি। কারণ তার পাশে এমন খেলোয়াড়রা ছিলেন, যারা প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

নিজের বিদায়ী বক্তব্যে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনার প্রসঙ্গও তোলেন মেসি। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চান। তাই দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং তাদের সেই তৃপ্তি দেওয়া যাবে না।

বিদায়ের মুহূর্তে নিজের ভূমিকার পরিবর্তনের কথাও জানান মেসি। বলেন, এখন থেকে তিনি আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক হিসেবে দলের পাশে থাকবেন। বর্তমান খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যারা জাতীয় দলে আসবেন, তাদেরও সমর্থন করে যাবেন তিনি।

মেসির এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবলে শেষ হলো এক দীর্ঘ ও বর্ণিল অধ্যায়। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের পর এবার মাঠের বাইরে থেকে প্রিয় দলকে সমর্থন করার পালা তার।