চাওড়া-বাসুগী খালে হাজারো অবৈধ স্থাপনা, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

চাওড়া-বাসুগী খালে হাজারো অবৈধ স্থাপনা, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের চাওড়া ও বাসুগী খাল দখল এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা খালের দুই তীরে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে বন্ধ করে রাখায় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আমতলী পৌরসভার একাংশ এবং চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং বাজারের বর্জ্য ফেলার কারণে খালগুলো ভরাট হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮০ সালে শহর রক্ষায় চাওড়া খালের ওপর একটি ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। পরে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানে ২০১৫ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড চাওড়া ও বাসুগী খালের সংযোগস্থলে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কালভার্টসংলগ্ন এলাকা ও খালের তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে খালের দুই পাশে সহস্রাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও কসাইখানার বর্জ্য নিয়মিত খালে ফেলার কারণে পানি প্রবাহ আরও ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টির সময়ও কালভার্ট দিয়ে কোনো পানি প্রবাহিত হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, চাওড়া ও বাসুগী খালের দুই তীরজুড়ে অসংখ্য দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। খালের বিভিন্ন অংশ ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে এবং কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রাখায় পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, দ্রুত কালভার্টের মুখ থেকে বালুর বস্তা অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি খালের দুই তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান বলেন, খাল দখলকারীদের ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।