যাত্রীদের পকেট কাটছে বাস-লঞ্চ, ভাড়া আদায়ে লাগামহীনতা
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ার পর সরকার পরিবহন ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা মানছেন না অনেক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাসে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চে ডেক ও কেবিনের ভাড়াও বেড়েছে কয়েক গুণ। একই চিত্র ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের ক্ষেত্রেও।
সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়। পরদিন বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা এবং বুধবার লঞ্চের ভাড়া দূরত্বভেদে কিলোমিটারপ্রতি ২০ থেকে ২৩ পয়সা বাড়ানো হয়। ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ থেকে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোথাও কোথাও ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর, গুলিস্তান, রামপুরা, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসে ন্যূনতম ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা এবং ১৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
সদরঘাটে বরিশাল ও ভোলা রুটের লঞ্চে ডেকের ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সিঙ্গেল কেবিনে ২০০ এবং ডাবল কেবিনে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ২০০ টাকার ডেকভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত।
চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট-আগ্রাবাদ রুটে ১৮ টাকার ভাড়া বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে। টেকনাফগামী বাসে ৬৫০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। কক্সবাজারের ভাড়া ৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮০-৫০০ টাকা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন রুটেও একই চিত্র। সিরাজগঞ্জ-রংপুর রুটে ৪০০ টাকার ভাড়া ৪২০ এবং পাবনায় ২৫০ টাকার ভাড়া ২৮৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরকারি হিসাবে ভাড়া ৩৭২ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন পরিবহনে ৩৭০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে ট্রেনে এখনো আগের ভাড়াই বহাল রয়েছে। তবে লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যে রেলভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার ভাড়া বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে তার চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফলে পরিবহন খাতে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা ও নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে।


