ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ, অস্থির ফ্রান্স-আলবেনিয়া

ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ, অস্থির ফ্রান্স-আলবেনিয়া

ছবি: সংগৃহীত

২১ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, সরকারি সেবার অবনতি ও আবাসনসংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ায় রাজপথের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে স্পেন ও পর্তুগালে বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাষ্ট্রীয় সেবা নিয়ে অসন্তোষ এই আন্দোলনগুলোর অন্যতম চালিকাশক্তি। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনও বিক্ষোভের প্রভাবকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তরুণদের হতাশা, রাজপথে ক্ষোভ

স্পেনের দেউস্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক মারিয়া সিলভেস্ত্রে মনে করেন, ইউরোপের তরুণদের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি বাড়ছে। বিভিন্ন সংকট একসঙ্গে দেখা দিলে তা মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভকে রাজপথে নিয়ে আসতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে উগ্র ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তির অগ্রগতিও ইউরোপের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

একই সময়ে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে অগ্নিসংযোগ, সাইবার হামলা ও অন্যান্য নাশকতার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হলেও এসব ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগ ও প্রমাণের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ফ্রান্স: শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ

ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কুলশিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি চলছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী নেই, অবকাঠামো জরাজীর্ণ এবং শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে তাঁদের দাবি।

পরে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ও অন্যান্য আন্দোলনকর্মী যুক্ত হওয়ায় বিক্ষোভের পরিধি বাড়ে। শিক্ষা খাতের সংকটের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার অবনতিও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে পরিণত হয়।

শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি কয়েকটি শহরে সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ ও বোর্দোতে বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিমোজ শহরে ঐতিহাসিক সিটি হলে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজার চার শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, লুটপাটকারীদের ক্ষয়ক্ষতির দায় নিতে হবে এবং প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তিনি সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য উগ্র বামপন্থি কর্মীদের দায়ী করেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। তবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এক নয়; অভিবাসীদের সামগ্রিকভাবে দায়ী করার পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

স্পেন: বাড়িভাড়া ছাড়িয়ে যাচ্ছে মানুষের সামর্থ্য

স্পেনে আবাসনসংকট জনঅসন্তোষের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। রাজধানী মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান করছেন বিক্ষোভকারীরা। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন।

একটি উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনটি নতুন গতি পায়। ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর মাদ্রিদের পাশাপাশি স্পেনের অন্যান্য শহরেও ছোট ছোট তাঁবুর শিবির গড়ে ওঠে।

দেশটিতে শিক্ষকদের আন্দোলনও চলছে। বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নের দাবিতে মাদ্রিদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন।

স্পেনের ব্যবসাবিষয়ক সংবাদপত্র এক্সপানসিয়নের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ২২১ ইউরো। অথচ ৮০ বর্গমিটার আয়তনের একটি অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া প্রায় ১ হাজার ১৩০ ইউরো। ফলে ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করা একজন মানুষের পক্ষে একক আয়ে এমন বাসস্থানের ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

মাদ্রিদের তাঁবু শিবিরে অবস্থান নেওয়া ২০ বছর বয়সী ওয়েট্রেস দিয়ানা মানসানারেস বলেন, তাঁর বেতনের বেশির ভাগই বাড়িভাড়ায় চলে যায়। তাঁর রুমমেটকেও একইভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।

জনগণের চাপের মুখে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করলেও সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবে সেগুলোর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আবাসনসংকট তাই কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে চলে এসেছে।

পর্তুগাল: লিসবন-পোর্তোতেও আবাসনবিরোধী আন্দোলন

স্পেনের পাশাপাশি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোর্তোতেও আবাসন ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, বাড়িভাড়ার চাপ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পর্যটকদের জন্য বাড়ির চাহিদা ও আবাসনবাজারের অন্যান্য চাপ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলছে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। ফলে আবাসনসংকট ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে একটি অভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

ইতালি: মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের দাবি

ইতালিতে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াচা’ বা ‘রাজপথে ইতালি’ আন্দোলনে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং মজুরি বৃদ্ধি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতালিতে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ওই সময়ে ইউরোজোনের ৩ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে বেশি। মূল্যস্ফীতির চাপের সঙ্গে আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ব্যবধান মানুষের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

শান্তিপূর্ণ মিছিলের পর তুরিন ও বোলোনিয়ায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। মিলানেও মুখোশধারী ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের সহিংসতায় ২৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ সদস্য আহত হন।

এদিকে ‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’ নামের একটি গোষ্ঠী ইতালির বিভিন্ন স্থানে প্রতি শনিবার বেলা ৩টায় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। তারা নিজেদের কর্মসূচিকে ধারাবাহিক আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করছে।

আলবেনিয়া: দুর্নীতিবিরোধী ক্ষোভে উত্তাল তিরানা

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর ‘ফ্লেমিঙ্গো’ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করছেন। দুর্নীতির অবসান, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারি পেনশনের সুরক্ষা তাঁদের অন্যতম দাবি।

আন্দোলনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্প। ফ্লেমিঙ্গো পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থলসংলগ্ন এলাকায় ওই প্রকল্পের অনুমতি দিয়েছে রামা সরকার। প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রামা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন নিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, উগ্র বামপন্থি সংগঠন অ্যান্টিফা আন্দোলনকারীদের প্রভাবিত করছে। ট্রাম্পও আন্দোলনটি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তবে রাজনৈতিক নেতাদের এসব বক্তব্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

সার্বিয়া: শিক্ষার্থীদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন

বলকান অঞ্চলের সার্বিয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন চলছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের আবার ক্ষমতায় ফেরার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন তাঁরা।

২৫ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের সমর্থনপুষ্ট ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’ রাজনৈতিক শক্তি ভুচিচের দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ও সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।

ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক নয়। তবে কয়েকটি বিষয়ে মিল স্পষ্ট:

  • জীবনযাত্রার ব্যয়: জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বাসাভাড়ার ব্যয় মানুষের আয়কে চাপে ফেলছে।
  • আবাসনসংকট: বিশেষ করে স্পেন ও পর্তুগালে সাশ্রয়ী বাসস্থানের অভাব বড় সামাজিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
  • শিক্ষা ও সরকারি সেবা: শিক্ষকস্বল্পতা, কর্মপরিবেশের অবনতি এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
  • দুর্নীতি ও জবাবদিহি: আলবেনিয়া ও সার্বিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী দাবি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা: কর্মসংস্থান, আয়, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার সীমাবদ্ধতা তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।
  • রাজনৈতিক মেরুকরণ: জনঅসন্তোষকে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের বক্তব্য ও কর্মসূচির পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং রাষ্ট্রীয় সেবা নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

তবে এসব বিক্ষোভকে একক কোনো আন্দোলন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। প্রতিটি দেশের স্থানীয় সমস্যা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনকারীদের দাবি আলাদা। ইউরোপের সরকারগুলোর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনঅসন্তোষের কারণগুলো মোকাবিলা করা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।