ওয়ার্ড সচিবের রামরাজত্ব: দুর্নীতির আখড়া ঢাকা উত্তরের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়

ওয়ার্ড সচিবের রামরাজত্ব: দুর্নীতির আখড়া ঢাকা উত্তরের ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়

জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লুটপাট, অনিয়ম ও চরম স্বেচ্ছাচারিতায় নাকাল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ কিংবা মৃত্যু সনদের মতো মৌলিক সেবার জন্য কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে পদে পদে চরম হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ—অফিসের সচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে পুরো কার্যালয়টি এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কার্যালয়টির কর্মচারীদের মধ্যে ন্যূনতম সৌজন্যবোধ বা পেশাদারিত্বের বালাই নেই। যেকোনো সনদের জন্য গেলে নাগরিকদের সঙ্গে শুরুতেই করা হয় চরম অসদাচরণ। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ঘোরাতে থাকা এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। তবে দাবিকৃত টাকার অংক মিটিয়ে দিলেই নিমিষেই মেলে কাঙ্ক্ষিত সেবা।

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড সচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে তিনি যেকোনো ধরণের অনৈতিক কাজ করতে পিছপা হন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ বানিয়ে মৃত্যু সনদ দেওয়া কিংবা মৃত মানুষকে ‘জীবিত’ দেখিয়ে সনদ দেওয়ার মতো গুরুতর জালিয়াতিও চলছে এই কার্যালয়ে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ভুক্তভোগী মহাখালীর বাসিন্দা মো. নাজমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “বাবার মৃত্যু সনদের জন্য এক সপ্তাহ ধরে ঘুরছি। প্রতিবারই নতুন নতুন কাগজের অজুহাত দিয়ে আটকে রাখা হয়। শেষে এক কর্মচারী সোজা জানিয়ে দিল, ‘চা-পানির খরচ’ না দিলে ফাইল আগে বাড়বে না। মনে হয় যেন আমরা ওদের গোলাম, আর ওরা আমাদের মনিব। জনপ্রতিনিধি না থাকায় এরা এখন বেপরোয়া।”

কার্যালয়ের কর্মচারীদের এমন ঔদ্ধত্য ও অপেশাদার ব্যবহারে ক্ষুব্ধ পুরো এলাকার মানুষ। সেবা নিতে আসা নারীরাও চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতিনিধি না থাকার সুযোগে সচিব ও কর্মচারীরা মিলে পুরো কার্যালয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড সচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সরকারের নিয়ম মেনেই সব কাজ করা হয়। প্রতিদিন প্রচুর সেবাগ্রহীতা আসেন, ফলে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিন্তু টাকা দাবি বা সনদ জালিয়াতির বিষয়টি সত্য নয়।”

ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের থাবা থেকে কাউন্সিলর কার্যালয়কে মুক্ত করা হোক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে নাগরিক সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত হয়।