রাজধানীর প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ই-রিকশা, চলবে আট জোনে
ঢাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। জোনভেদে ই-রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট আটটি জোন নির্ধারণ করে ই-রিকশা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। কোন ই-রিকশা কোন সড়কে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে। ই-রিকশা কেবল অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করবে; প্রধান সড়কে এসব যান চলতে দেওয়া হবে না।
ছয় যাত্রীর ই-রিকশা ঢাকায় নিবন্ধন নয়
মীর শাহে আলম জানান, ঢাকায় দুই ও চার যাত্রী বহন করতে সক্ষম ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা ঢাকা শহরে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে না।
জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকায় দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
নীতিমালা জারির অপেক্ষায়
ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যে, অথবা যত দ্রুত সম্ভব, তা জারি করা হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক হতে পারে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদও প্রয়োজন হবে।
অনুমোদিত নকশায় তৈরি করতে হবে ই-রিকশা
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-রিকশা তৈরির কারখানাগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। বুয়েট বা কোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করেই এসব যান তৈরি করতে হবে।
এ ছাড়া ই-রিকশা তৈরির কারখানার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চার্জিং পয়েন্টে সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা
ই-রিকশার চার্জিং ব্যবস্থাকেও নীতিমালার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে চার্জিং পয়েন্টগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনার জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান মেনে তৈরি ই-রিকশাকেই নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে। নীতিমালা কার্যকর হলে ঢাকার সড়কে ই-রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
যানজট কমাতে আরও উদ্যোগ
ঢাকার যানজট ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। তাই একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়; এজন্য সময় প্রয়োজন।
তিনি জানান, বাসস্ট্যান্ডের বাইরে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ঢাকার পাইকারি কাঁচাবাজার শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ফল পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।


