ঢাকায় অটোরিকশা ধর্মঘট, জনভোগান্তি
রাজধানীর বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছেন অটোরিকশাচালকরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গণপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ধর্মঘটের আগে রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর প্রভাবে সোমবার প্রধান সড়কগুলোতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অটোরিকশা না থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশার ওপর যাতায়াতের জন্য বেশি নির্ভরশীল এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ বেড়েছে। বিকল্প যানবাহনের চাহিদা বাড়ায় কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
সকালে মগবাজারের ব্যস্ত সড়কের একপাশে সারিবদ্ধ অবস্থায় বেশ কিছু অচল অটোরিকশা দেখা যায়। এক চালক অভিযোগ করেন, ধর্মঘটের কারণে তাদের অটোরিকশার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে রিকশা নিয়ে সড়কে বের হলেও আয়-রোজগার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে অটোরিকশাচালকদের অবস্থান ও সড়ক অবরোধের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে যানজট। তবে অটোরিকশা কম চলায় নগরীর কিছু প্রধান সড়ক তুলনামূলক ফাঁকাও দেখা গেছে।
প্রেসক্লাবের সামনে চালকদের সমাবেশ
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন ‘অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ’-এর নেতাকর্মীরা। এতে শত শত অটোরিকশাচালক অংশ নেন।
সমাবেশে নেতারা বলেন, ঢাকাকে যানজটমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের সঙ্গে তারাও সহযোগিতা করতে চান। এ জন্য অটোরিকশা মালিক ও চালকদের সঙ্গে বসে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।
নেতারা বলেন, অটোরিকশার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত। অনেক চালক ঋণ করে ৬৫ হাজার, ৭০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করে অটোরিকশা কিনেছেন। তাই যানবাহনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডাম্পিংয়ের নামে কথিত অবৈধ ক্যাম্পিং বন্ধ এবং যত্রতত্র হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
তাদের দাবি, গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়নের আগে রিকশা গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বন্ধ করতে হবে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
ধর্মঘটের কারণে নগরীতে প্যাডেলচালিত রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে কিছু চালক স্বাভাবিকের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন বলে কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন।


