মৃত্যুর ১৭ বছর পর নতুন আলোচনায় মাইকেল জ্যাকসন
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। বিশ্বব্যাপী মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই সিনেমাটি ৯৭ কোটি ৭০ লাখ (৯৭৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার আয় করে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিকের স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওপেনহেইমার’-এর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ‘মাইকেল’। বিজ্ঞানী জে. রবার্ট ওপেনহেইমারের জীবন নিয়ে নির্মিত সেই চলচ্চিত্রটির বৈশ্বিক আয় ছিল ৯৭ কোটি ৫০ লাখ (৯৭৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার।
পরিচালক অঁতোয়ান ফুকোয়ার নির্মাণে ‘মাইকেল’ সিনেমায় কিংবদন্তি শিল্পীর শৈশব, পারিবারিক ব্যান্ড ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’-এ পথচলা এবং পরবর্তীতে বিশ্বসংগীতের ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এতে মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। এছাড়া কোলম্যান ডোমিঙ্গো ও নিয়া লং অভিনয় করেছেন তার বাবা-মায়ের চরিত্রে।
মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বজুড়ে ২১ কোটি ৭০ লাখ (২১৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার আয় করে আলোচনায় আসে সিনেমাটি। একই সঙ্গে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ ও ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’-সহ জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক বায়োপিকগুলোকেও আয় ও দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ছাড়িয়ে যায়। পাশাপাশি এটি লায়ন্সগেট স্টুডিওসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।
তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রটি সমালোচনারও মুখে পড়েছে। অনেক সমালোচকের দাবি, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়—বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ—চলচ্চিত্রে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অনেকে এটিকে বাস্তবতার তুলনায় একপেশে উপস্থাপনা বলে মন্তব্য করেছেন।
সমালোচনা সত্ত্বেও দর্শকদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং সিনেমা মুক্তির পর নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মাইকেল জ্যাকসনের গান। বিশেষ করে ‘বিলি জিন’ বিশ্বের অন্যতম বেশি স্ট্রিম হওয়া গানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউব ও স্পটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি শোনা শিল্পীদের একজন ছিলেন তিনি।
এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ‘মাইকেল’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে আরও একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে লায়ন্সগেট স্টুডিওস।


